কিভাবে মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় || How To Control Mind in Bengali

How to control Mind In Bengali: কেউ একজন খুব একটা দামি কথা বলে গেছিলেন – “যদি তুমি তোমার মনকে কন্ট্রোল করতে না পারো তাহলে তোমার মন তোমাকে কন্ট্রোল করবে।” অন্যদিকে হুমায়ূন আহমেদ খান একটা দারুন কথা বলেছিলেন যে, “এই পৃথিবীতে সকল অপরাধের বিচার হয় শুধুমাত্র মন ভাঙ্গার অপরাধের কোন বিচার হয় না।” তার কারণ এত বড় অপরাধের বিচার করার ক্ষমতা মানুষের নেই। কারণ আজকের মূল টপিক হল- কিভাবে নিজের মনকে কন্ট্রোল করবে? নিজের মনকে কন্ট্রোল করতে শেখো। আজকের এই মন্তব্যটিতে আমরা দুটি টপিক নিয়ে আলোচনা করব। যথা-

●      কেন মনকে কন্ট্রোল করা প্রয়োজন?

●      কিভাবে মনকে কন্ট্রোল করা যায়?

কারণ কোনো একটা কাজ করতে যাওয়ার আগে আমার অবশ্যই জানা জরুরী যে, এই কাজটি আমি কেন করব? এই জিজ্ঞাসাটা আগে আমাদের করা উচিত এবং পরবর্তীতে আমাদের সেই সমস্ত ভাবনা নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে হবে।

কেন মনকে কন্ট্রোল করা প্রয়োজন?:-

মনকে কেন কন্ট্রোল করা প্রয়োজন এবং কিভাবে মনকে কন্ট্রোল করতে পারব এই সম্বন্ধে আমরা যদি  গুরুত্বসহকারে এটা না ভাবি তাহলে আমরা কোনদিনই বুঝতে পারব না যে, মনকে কন্ট্রোল করা যায় কিভাবে?

প্রচুর এমন কিছু মানুষ আছে যারা বলে যে, আমার জাস্ট কিছুই ভালো লাগছে না। আমার জীবনে অনেক সমস্যা এবং আমি এখান থেকে অর্থাৎ আমার বাসস্থান ছেড়ে পালিয়ে যেতে চাই এবং এখান থেকে কোথাও দূরে চলে যেতে চাই যেখানে আমাকে কেউ চিনবে না। সেখানে গিয়ে আমি পুরো একটা নতুন জীবন শুরু করতে চাই।

আপনি যদি ভেবে থাকেন যে, এখান থেকে চলে গেলেই আপনার জীবনের সব সমস্যা দূর হয়ে যাবে তাহলে আপনি পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বাসস্থান নির্মাণ করে থাকতে পারেন। সেটা হতে পারে ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ, নেপাল, চীন ভুটান সহ আরো কয়েকটি দেশে। প্রবলেমটা হল আপনি যে কোন একটা অন্য দেশে গিয়েও আসলে প্রবলেমটা থেকে কি বের হতে পারবেন? প্রোবলেমটা Physical World বা শারীরিক জগৎ এর নয় প্রোবলেমটা হল তোমার ভেতরে।

আজ এখানে সমস্যা হচ্ছে আপনি বাইরে চলে গেলে কিন্তু আপনার ভেতরে যে সমস্যাটা আছে সেই সমস্যাটাকে আপনি তো আর ফেলে রেখে চলে যেতে পারবে না। আপনি যেখানেই যান না কেন সেই সমস্যাটাকে আপনাকে বয়ে বয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে। Physical World বা শারীরিক জগৎ এ আমাদের যে প্রোবলেম গুলো হয় সেগুলি তারাতারি শেষ হয়ে যায় কিন্তু মনের ভেতরে যে কথাগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে সেগুলো কোনোদিনই শেষ হবে না। তাই অবশ্যই আমাদের মনকে কন্ট্রোল করা প্রয়োজন। কেননা আমাদের মনের ভেতরে যদি অতীতের কথা গুলো বারবার ঘুরপাক খেতে থাকে তাহলে আমাদের মনে নতুন কোনো বিষয় জায়গা করে নিতে পারবে না। একটি উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে –

এক ব্যাক্তি একটি কুকুরের গলায় বেল্ট বেঁধে নিয়ে যাচ্ছে। এটা একটা সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু হঠাৎ করে আমরা যদি দেখি যে, একটি কুকুর এক ব্যক্তির গলায় বেল্ট বেঁধে নিয়ে যাচ্ছে তখন এটা দেখতে কিংবা শুনতে অনেকটাই খারাপ লাগে। যেনএটা ঠিক মানানসই নয়। ঠিক তদ্রূপ আপনি যদি আপনার মনটাকে নিজের বশে রাখতে পারেন তাহলে আপনার কোন কিছুতেই হঠাতে ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা থাকবে না, কিংবা খারাপ চিন্তা ভাবনা আসবে না, খারাপ পথে চালিত হবেন না। কিন্তু আপনার মন যদি কন্ট্রোল হীন হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই মনে নানান খারাপ চিন্তা ভাবনা আসবে এবং মন আপনাকে বে-পথে চালিত করবে। এখানে মন আমাকে চালিত করছে, আমি আমার মনকে নয়। তাই মনকে কন্ট্রোল করা নিতান্তই বাধ্যতামূলক।

মনকে কীভাবে কন্ট্রোল করা যায়?(How to Control Mind In Bengali):-

এরপরে আমরা আলোচনা করব যে, কিভাবে আমরা মনকে কন্ট্রোল বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি?

মন আপনার এমন একটা বন্ধু যা শুধু নিজের টা নিয়ে ভাবে যা শুধু নিজের টা বোঝে। তোমার কি হলো তা নিয়ে ওর  কোনো যায় আসে না। ওর শুধু নিজেরটা হয়ে গেলে হল। এমন কিছু স্বার্থপর বন্ধু আছে যাদের শুধু নিজেরটা হয়ে গেলেই হল তারপরে আপনার কি হল তা নিয়ে তার কোন যায় আসে না। আমাদের মন সবসময় আমাদেরকে এমন কিছুই সাজেস্ট করে যেটা আমাদের শরীরকে কমফোর্ট দেয়।

আমাদের মন Each And Every Time আমাদেরকে এমন কিছুই সাজেস্ট করে যেটা আমাদেরকে প্লে হেয়ার দেয়। ধরুন জিম করতে যাওয়া।  জিম হলো একটা হার্ডওয়ার। জিম করতে যাওয়ার আগে একদিন, দুদিন, তিনদিন, তিনমাসের পর মন বলে যে, আজকে ভালো লাগছে না জিম যেতে গা হাত পা ব্যথা করছে বরং একটু বসে ফেসবুক করি, হোয়াটসঅ্যাপ চালাই ইত্যাদি। মন আপনাকে আপনার শরীরের কমফোর্ট টা দেখাচ্ছে যে আজকে জিম যেতে হবে না। আপনি যদি জিম না যান তাহলে ফিটনেস এর অভাব কার হবে? আপনার হবে‌ নাকি মনের? কোনটা? আপনার মন আপনাকে একটা কমফোর্ট সাজেস্ট করল আপনার মাইন্ড যদি সেটাকে একসেপ্ট করে নেয় যে হ্যাঁ আমি যাব না তাহলে লসটা আপনারই হবে। আর একটা প্রাকটিক্যাল লাইফ এর উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে –

ধরো তুমি একটা দোকানে গেছো মোবাইল কিনতে। কিন্তু তোমার কিনতে ইচ্ছে করছে আইফোন 12 । যার মূল্য 1 লক্ষ টাকা।  কিন্তু আপনার সেই সময় আছে মাত্র  30,000 টাকা। আপনার মন প্রত্যেকদিন বলছে যে আমি আইফোনটাই কিনব। কিন্তু আপনার পকেটে আছে মাত্র 30,000 টাকা। আপনাকে লোন নিতে হবে কিংবা EMI করতে হবে। আপনার মন আপনাকে প্লেজারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, কমফোর্ট এর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আর আপনি কি করলেন মনের কথা শুনে আইফোনটা নিয়ে নিলেন এবং প্রত্যেক বছর লোন দিতে থাকছেন।

নতুন কিছু আর কিনতে পারছেন না। মাথার ওপর EMI এর বোঝা রয়েছে। প্রত্যেক দিন ঘুম থেকে ওঠেই আপনার মনে হবে কিভাবে EMI পরিশোধ করব? টাকা যোগাড় করা হয়নি, কিংবা মাথার মধ্যে প্রেসার থাকবে যে, টাকা জোগাড় করতে হবে। একটা মানুষ যদি মদ খায় তাহলে সে চাইবে প্রতিদিন মদ খেতে। কিন্তু সে প্রত্যেকদিন রিয়ালিটিটাকে না বুঝেই যখন মদ খেয়েই যাচ্ছে তাহলে ভাবুন পরবর্তীতে কিংবা কিছু বছর বাদে তার লিভারের অবস্থাটা কি হবে? আপনার মন আপনাকে আজ এমন কিছু বলছে যেগুলো আপনি প্রত্যেকদিন ফলো করছেন,  কমফোর্ট জোনের দিকে ঠেলছেন কিন্তু এই কমফোর্ট জোনের দিকে ঠেলতে ঠেলতে পাঁচ বছর বাদে যখন প্রবলেমটা ফেস করবেন তখন আপনি কিছুতেই খুঁজে পাবেন না যে, সমস্যাটা কোথা থেকে তৈরি হয়েছিল।

সমস্যাগুলো শুরু হয়েছিল বা তৈরি হয়েছিল আপনি আপনার মনের কথা শুনেছিলেন বলে। মনের কথা শুনবেন কিন্ত কখন শুনবেন? যখন আপনি সত্যিই কমফোর্ট খুঁজছেন তখন মনের কথা শুনবেন। আপনি কমফোর্ট-ই খুজছেন তখন মনের কথা শুনবেন তখন মন যেটা বলবে সেটা শুনে নিন। আপনার মন আপনাকে প্রত্যেক সময় কমফোর্ট জোনের দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু আপনার মাইন্ড আপনাকে কমফোর্ট জোনের দিকে ঠেলবে না।

আপনার মাইন্ড আপনাকে রিয়ালিটি টা দেখাবে। যেকোনো সময় যেকোনো ধরনের কনফিউশনে যখন আপনি বুঝতে পারবেন না যে মনের কথা শুনব নাকি মাথার? সর্বদাই একজন থার্ড পারসন হয়ে এই প্রবলেমটা কে রিয়েলিটির বেসিসে দেখার চেষ্টা করুন। আপনার সাথে যে সমস্যাটা হচ্ছে আপনি যেখানে কনফিউজড হয়ে আছেন একজন থার্ড পারসন এর মত সেই প্রবলেমটা কে চার্জ করে দেখুন। এই প্রবলেমটা একজন থার্ড পারসন হলে কি বলতো? যে মনের কথা শোনা উচিত নাকি মাথার? যখনই আপনি রিয়ালিটিটা কে দেখতে পাবেন বা বাস্তবটাকে দেখতে পাবেন তখনই আপনি বুঝে যাবেন মন ঠিক কথা বলছে নাকি মাথা ঠিক বলছে? বাস্তববাদী হওয়ায় কোন সমস্যা নেই।

কিন্তু অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে গেলে জীবনে সমস্যা বেড়ে যায়। আর এভাবেই আপনি আপনার মনকে কন্ট্রোল করতে পারবেন। আর এই কন্ট্রোল করার ক্ষমতাটা একটা লং টার্ম প্রসেস। আপনি ধরুন আজকে মনকে কন্ট্রোল করলেন কিন্তু কালকে হাল ছেড়ে দিলেন তাহলে হবে না। প্রত্যেকদিন প্রতিমুহূর্তে নিজের মনকে কন্ট্রোল করতে জানতে হবে। নিজের বাস্তবতা অনুযায়ী চলতে হবে। এটাই ছিল ট্রিক। নিজের রিয়ালিটি টা কে দেখা।

আমি আশা করি আপনারা এটাকে দিনের পর দিন ফলো করলে কিংবা আপনি যদি এটাকে একমাস ফলো করেন তাহলে নিজের মধ্যে একটা ম্যাচুরিটি দেখতে পাবেন। নিবন্ধটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

Leave a Comment